সেকেন্ড হ্যান্ড জিনিস কেনাবেচার ১০টি স্মার্ট টিপস যা আপনার অর্থ বাঁচাবে!

webmaster

중고 거래 활용법 - **Prompt 1: The Joy of Discovery at a Second-Hand Market**
    "A bustling, vibrant indoor second-ha...

আরে ভাই ও বোনেরা! কেমন আছেন সবাই? আশা করি ভালোই আছেন। আজকাল চারপাশে একটা জিনিস খুব চোখে পড়ছে, জানেন তো?

সবাই যেন পুরোনো জিনিসপত্র কেনাবেচার দিকে ঝুঁকছে। আমার নিজেরও মনে হয়, কেনই বা ঝুঁকবে না বলুন! নতুন জিনিস কেনার ক্ষমতা হয়তো সবার সবসময় থাকে না, আবার অনেক সময় শখের জিনিসও অনেক কম দামে পাওয়া যায়। আমি নিজেও তো কতবার পুরোনো জিনিস খুঁজে খুঁজে এমন কিছু পেয়েছি যা নতুন দামে কেনার কথা ভাবতেই পারতাম না!

ভাবতেই অবাক লাগে, একটা সময় ছিল যখন পুরোনো জিনিস মানেই অবহেলিত কিছু ভাবা হতো, এখন তো উল্টো চিত্র। সবাই মিলেমিশে এই পুরোনো জিনিসগুলোকে নতুন করে জীবন দিচ্ছে।এই যে দেখেন, Bikroy.com বা ফেসবুক মার্কেটপ্লেসের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো আমাদের জন্য কতটা সহজ করে দিয়েছে এই কাজটা। আপনার ঘরে অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে থাকা জিনিসটা হয়তো অন্য কারো জন্য ভীষণ দরকারি, আর এই ডিজিটাল যুগে এক ক্লিকেই সেই জিনিস পৌঁছে যাচ্ছে সঠিক মানুষের কাছে। এটা শুধু আপনার টাকা বাঁচাচ্ছে তা নয়, বরং আমাদের পরিবেশের জন্যও এটা দারুণ একটা কাজ। আমার মনে হয়, মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য তো বটেই, এমনকি যারা একটু স্মার্ট শপিং করতে চান, তাদের জন্য এই সেকেন্ড হ্যান্ড মার্কেটপ্লেসগুলো আশীর্বাদ স্বরূপ। কিন্তু এই সুবিধা নিতে গিয়ে আবার প্রতারণার শিকার হওয়া যাবে না, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।আসুন, নিচের লেখায় আমরা মধ্যবিত্তের জন্য এই নতুন সেকেন্ড হ্যান্ড মার্কেট থেকে কীভাবে সেরা ডিল খুঁজে বের করা যায়, কীভাবে নিরাপদে কেনাবেচা করা যায়, আর ভবিষ্যতে এই বাজারের সম্ভাবনা কেমন— সব কিছু বিস্তারিত জেনে নিই।আরে ভাই ও বোনেরা!

কেমন আছেন সবাই? আশা করি ভালোই আছেন। আজকাল চারপাশে একটা জিনিস খুব চোখে পড়ছে, জানেন তো? সবাই যেন পুরোনো জিনিসপত্র কেনাবেচার দিকে ঝুঁকছে। আমার নিজেরও মনে হয়, কেনই বা ঝুঁকবে না বলুন!

নতুন জিনিস কেনার ক্ষমতা হয়তো সবার সবসময় থাকে না, আবার অনেক সময় শখের জিনিসও অনেক কম দামে পাওয়া যায়। আমি নিজেও তো কতবার পুরোনো জিনিস খুঁজে খুঁজে এমন কিছু পেয়েছি যা নতুন দামে কেনার কথা ভাবতেই পারতাম না!

ভাবতেই অবাক লাগে, একটা সময় ছিল যখন পুরোনো জিনিস মানেই অবহেলিত কিছু ভাবা হতো, এখন তো উল্টো চিত্র। সবাই মিলেমিশে এই পুরোনো জিনিসগুলোকে নতুন করে জীবন দিচ্ছে।এই যে দেখেন, Bikroy.com বা ফেসবুক মার্কেটপ্লেসের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো আমাদের জন্য কতটা সহজ করে দিয়েছে এই কাজটা। আপনার ঘরে অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে থাকা জিনিসটা হয়তো অন্য কারো জন্য ভীষণ দরকারি, আর এই ডিজিটাল যুগে এক ক্লিকেই সেই জিনিস পৌঁছে যাচ্ছে সঠিক মানুষের কাছে। এটা শুধু আপনার টাকা বাঁচাচ্ছে তা নয়, বরং আমাদের পরিবেশের জন্যও এটা দারুণ একটা কাজ। আমার মনে হয়, মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য তো বটেই, এমনকি যারা একটু স্মার্ট শপিং করতে চান, তাদের জন্য এই সেকেন্ড হ্যান্ড মার্কেটপ্লেসগুলো আশীর্বাদ স্বরূপ। কিন্তু এই সুবিধা নিতে গিয়ে আবার প্রতারণার শিকার হওয়া যাবে না, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।আসুন, নিচের লেখায় আমরা মধ্যবিত্তের জন্য এই নতুন সেকেন্ড হ্যান্ড মার্কেট থেকে কীভাবে সেরা ডিল খুঁজে বের করা যায়, কীভাবে নিরাপদে কেনাবেচা করা যায়, আর ভবিষ্যতে এই বাজারের সম্ভাবনা কেমন— সব কিছু বিস্তারিত জেনে নিই।

পুরোনো জিনিস কেনাবেচার পেছনের মজার গল্প ও বর্তমান ট্রেন্ড

중고 거래 활용법 - **Prompt 1: The Joy of Discovery at a Second-Hand Market**
    "A bustling, vibrant indoor second-ha...

আজকাল দেখছেন তো, পুরোনো জিনিস মানেই যে অকেজো বা ফেলে দেওয়ার মতো, সেই ধারণাটা যেন বদলে গেছে। আমার মনে হয়, এর পেছনে অনেক কারণ আছে। প্রথমত, আমরা এখন অনেক বেশি সচেতন। একটা জিনিস ফেলে দেওয়ার আগে ভাবি, ইশ, যদি এটা অন্য কারো কাজে লাগে!

এতে পরিবেশের উপকার হয়, রিসাইক্লিংয়ের একটা নতুন পথ খুলে যায়। আর সত্যি বলতে কী, অনেক সময় নতুন জিনিসের যে দাম, সেটা সবার পক্ষে বহন করা সম্ভব হয় না। মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য তো বটেই, এমনকি উচ্চবিত্তরাও এখন শখের জিনিস বা অ্যান্টিক কালেকশন খুঁজতে সেকেন্ড হ্যান্ড মার্কেটে ঢুঁ মারেন। আমি নিজেও কতবার পুরনো বই বা আনকমন কিছু খুঁজতে গিয়ে এমন সব রত্ন পেয়েছি, যা নতুন বাজারে কল্পনাও করা যেত না!

এসব জিনিস কেনার মজাই আলাদা, জানেন তো? একটা গল্প থাকে এর পেছনে, একটা ইতিহাস থাকে। এই অনুভূতিটাই নতুন জিনিস কেনার সময় পাওয়া যায় না। সমাজের সব স্তরের মানুষই এখন এই ট্রেন্ডের সাথে যুক্ত হচ্ছে, আর এটা একটা দারুণ ইতিবাচক পরিবর্তন। পুরোনো জিনিসের প্রতি এই আগ্রহ কেবল অর্থ সাশ্রয়ের ব্যাপার নয়, বরং এটা আমাদের মূল্যবোধ আর সচেতনতারও একটা প্রতিচ্ছবি।

সাশ্রয়ী মূল্যে দারুণ সব ডিল

সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো, এই বাজারে অবিশ্বাস্য দামে ভালো জিনিস পাওয়া যায়। ধরুন, আপনি একটা ব্র্যান্ড নিউ মোবাইল ফোন কিনবেন ভাবছেন, কিন্তু বাজেট কম। সেকেন্ড হ্যান্ড মার্কেটে একটু খুঁজলে দেখবেন, হয়তো এক বছরের পুরোনো, কিন্তু যত্ন করে ব্যবহার করা হয়েছে এমন একটা মডেল আপনি অর্ধেক দামে বা তারও কম দামে পেয়ে যাচ্ছেন। আমি একবার একটা দামি ক্যামেরার লেন্স খুঁজছিলাম, নতুন কিনতে গেলে আমার মাসিক বেতনের প্রায় অর্ধেক চলে যেত। কিন্তু Bikroy.com-এ খুঁজতে গিয়ে দেখি, একজন ব্যবহারকারী খুব অল্প দামে তার প্রায় নতুন লেন্সটি বিক্রি করছেন। সরাসরি দেখা করে, লেন্সটি ভালোভাবে পরীক্ষা করে আমি কিনে ফেললাম। সেই লেন্স দিয়ে তোলা ছবিগুলো এখনো আমার স্মৃতিতে অমলিন। এই অভিজ্ঞতাগুলো আসলে বলে বোঝানো যায় না। এটা কেবল টাকার সাশ্রয় নয়, বরং নিজের শখ পূরণ করার একটা দারুণ সুযোগ। শুধু ইলেকট্রনিক্স কেন, ফার্নিচার, পোশাক, গহনা— সব কিছুতেই এমন দুর্দান্ত ডিল পাওয়া সম্ভব, যদি আপনি একটু ধৈর্য ধরে খোঁজেন।

পরিবেশের প্রতি আমাদের দায়িত্ববোধ

বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, পুরোনো জিনিস কেনাবেচা করে আমরা পরিবেশের অনেক বড় একটা উপকার করছি। যখন আমরা পুরোনো একটা জিনিস আবার ব্যবহার করি, তখন নতুন করে একটা জিনিস তৈরির প্রয়োজন কমে যায়। এর ফলে কার্বন নিঃসরণ কমে, প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর চাপ কমে, এবং বর্জ্য উৎপাদনও কমে যায়। আমার মনে আছে, আমার এক বন্ধু তার পুরনো সাইকেলটি বিক্রি করে দিয়েছিল। অন্য একজন সেটা কিনে নিয়ে নতুন করে রং করে, কিছু যন্ত্রাংশ বদলে আবার ব্যবহার শুরু করল। এতে দুটো উপকার হলো – একজন নতুন সাইকেলের খরচ থেকে বাঁচল, আর পরিবেশের জন্য একটা নতুন সাইকেল তৈরির চাপ কমে গেল। এভাবেই ছোট ছোট উদ্যোগগুলো একটা বড় পরিবর্তন আনতে পারে। আমরা সবাই মিলেমিশে যদি এই কাজটা করি, তাহলে আমাদের চারপাশের পরিবেশটা আরও সুন্দর ও বাসযোগ্য হয়ে উঠবে। এটা শুধু একজন ব্যক্তি বা একটা পরিবারের ব্যাপার নয়, এটা আমাদের সমাজের এবং পৃথিবীর ভবিষ্যতের জন্য খুব জরুরি একটা পদক্ষেপ।

অনলাইনে সেকেন্ড হ্যান্ড জিনিস কেনার সময় যা খেয়াল রাখবেন

অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো সেকেন্ড হ্যান্ড জিনিস কেনাবেচাকে যতটা সহজ করে দিয়েছে, ঠিক ততটাই বাড়িয়ে দিয়েছে প্রতারণার ঝুঁকি। তাই সব সময় সতর্ক থাকতে হবে। আমি যখন অনলাইনে কিছু কিনি বা বিক্রি করি, তখন কিছু বিষয় খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখি। ধরুন, আপনি একটা ল্যাপটপ কিনবেন। ছবি দেখে মনে হতে পারে খুব ভালো অবস্থায় আছে, কিন্তু হাতে পাওয়ার পর দেখলেন স্ক্রিনে দাগ, ব্যাটারি ব্যাকআপ কম, বা আরও অনেক সমস্যা। এই পরিস্থিতিগুলো এড়ানোর জন্য আমাদের কিছু বিষয় অবশ্যই মেনে চলা উচিত। তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া চলবে না। বিক্রেতার সাথে কথা বলা, পণ্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেওয়া— এসবের জন্য পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, অনেক সময় তাড়াহুড়ো করে নেওয়া সিদ্ধান্ত পরে আফসোসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই সেকেন্ড হ্যান্ড কিছু কেনার আগে একটু সময় নিয়ে যাচাই-বাছাই করাটা বুদ্ধিমানের কাজ।

বিক্রেতার প্রোফাইল ও রিভিউ যাচাই

অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিক্রেতার প্রোফাইলটা খুব ভালোভাবে দেখতে হবে। তার প্রোফাইলটা কি নতুন? নাকি অনেকদিন ধরে সে জিনিসপত্র বিক্রি করছে? তার কি কোনো ভেরিফায়েড ব্যাজ আছে?

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, তার আগের ক্রেতারা কেমন রিভিউ দিয়েছে সেটা দেখা। যদি দেখেন কোনো বিক্রেতার প্রোফাইল নতুন, কোনো রিভিউ নেই, অথবা নেতিবাচক রিভিউ আছে, তাহলে একটু সতর্ক হয়ে যান। আমি নিজে একবার একটা ইলেকট্রনিক গ্যাজেট কিনতে গিয়েছিলাম, বিক্রেতার প্রোফাইল নতুন ছিল, কোনো রিভিউ ছিল না। আমার কেমন যেন খটকা লাগল। পরে খোঁজ নিয়ে জানলাম, সে আসলে একজন প্রতারক, অল্প দামে জিনিসের লোভ দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়। তখন থেকেই আমি প্রোফাইল আর রিভিউ খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখি। এটা আপনাকে সম্ভাব্য অনেক বিপদ থেকে রক্ষা করবে।

পণ্যের ছবি ও বিবরণ মনোযোগ দিয়ে দেখা

বিজ্ঞাপনে দেওয়া পণ্যের ছবিগুলো খুব ভালোভাবে দেখুন। ছবিগুলো কি স্পষ্ট? নাকি ঘোলাটে? বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে ছবি দেওয়া আছে কিনা?

অনেক সময় বিক্রেতারা ত্রুটিগুলো লুকানোর জন্য ভালো করে ছবি দেন না। আর পণ্যের বিবরণে কী লেখা আছে, সেটা লাইন ধরে পড়ুন। সব বৈশিষ্ট্য দেওয়া আছে কিনা, কোনো ত্রুটি উল্লেখ করা হয়েছে কিনা, ওয়ারেন্টি বা গ্যারান্টি আছে কিনা— এসব ভালোভাবে দেখে নিন। প্রয়োজনে বিক্রেতার সাথে চ্যাট করে আরও ছবি চাইতে পারেন বা বিস্তারিত জানতে চাইতে পারেন। আমি একবার একটা সেকেন্ড হ্যান্ড স্মার্টওয়াচ কিনতে গিয়েছিলাম। ছবিতে খুব সুন্দর লাগছিল। কিন্তু চ্যাট করে আরও ছবি চাইতেই দেখি, স্ক্রিনে একটা বড় স্ক্র্যাচ আছে, যা বিজ্ঞাপনের ছবিতে দেখা যায়নি। তখনই আমি কেনার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলাম।

Advertisement

সরাসরি দেখা ও যাচাইয়ের গুরুত্ব

যদি সম্ভব হয়, তাহলে জিনিসটা কেনার আগে সরাসরি বিক্রেতার সাথে দেখা করে পণ্যটা যাচাই করে নিন। বিশেষ করে দামি জিনিসপত্র, যেমন মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, গাড়ি বা ফার্নিচারের ক্ষেত্রে এটা খুবই জরুরি। এমন একটা জায়গায় দেখা করুন যেখানে অনেক মানুষ থাকে, যেমন কোনো শপিং মল বা জনবহুল ক্যাফে। জিনিসটা হাতে নিয়ে ভালো করে দেখে নিন, চালিয়ে দেখুন, কোনো ত্রুটি আছে কিনা তা পরীক্ষা করুন। আমি একবার একটা সেকেন্ড হ্যান্ড বাইক কিনতে গিয়েছিলাম। বিজ্ঞাপনে অনেক ভালো বলা হলেও, ইঞ্জিন স্টার্ট করার পরই বুঝলাম ইঞ্জিনে সমস্যা আছে। তখনই আমি কেনার সিদ্ধান্ত বাদ দিয়ে দেই। সরাসরি যাচাই করাটা আপনাকে অনেক বড় ক্ষতি থেকে বাঁচিয়ে দেবে।

কোন জিনিসগুলো সেকেন্ড হ্যান্ডে কিনলে আপনি ঠকবেন না?

সবকিছুই যে সেকেন্ড হ্যান্ডে কেনা ভালো, তা কিন্তু নয়। কিছু জিনিস আছে যেগুলো সেকেন্ড হ্যান্ডে কিনলে যেমন টাকা বাঁচে, তেমনি গুণগত মানও অক্ষুণ্ণ থাকে। আবার কিছু জিনিস আছে যেগুলো সেকেন্ড হ্যান্ডে না কেনাই বুদ্ধিমানের কাজ। আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, কিছু জিনিস কেনার আগে একটু ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। যেমন, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কিত জিনিসপত্র সেকেন্ড হ্যান্ড না কেনাই ভালো। কিন্তু ফার্নিচার, বই, কিছু ইলেকট্রনিক্স— এগুলো সেকেন্ড হ্যান্ডে কিনলে প্রায়ই ভালো ডিল পাওয়া যায়। নিচে একটা তালিকা দিলাম, যা আপনাকে সেকেন্ড হ্যান্ড জিনিস কেনার সময় সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।

সেকেন্ড হ্যান্ডে কেনার জন্য উপযুক্ত সেকেন্ড হ্যান্ডে না কেনাই ভালো
ফার্নিচার আন্ডারওয়্যার, মোজা
বই মেকআপ ও কসমেটিক্স
গৃহস্থালীর সাজসজ্জার জিনিস বাচ্চাদের কার সিট (নিরাপত্তার কারণে)
গেম কনসোল ও গেম হেলমেট (নিরাপত্তার কারণে)
পোশাক (কিছু ব্র্যান্ডেড ও ভালো অবস্থায় থাকলে) কিছু ইলেকট্রনিক্স (বিশেষ করে যেগুলোর ব্যাটারি সমস্যা হতে পারে)

ফার্নিচার ও গৃহস্থালীর সামগ্রী

আমার মনে হয়, ফার্নিচার সেকেন্ড হ্যান্ডে কেনার জন্য সবচেয়ে ভালো জিনিসগুলোর মধ্যে একটা। নতুন ফার্নিচারের দাম এখন আকাশছোঁয়া। অথচ একটু খুঁজলে দেখবেন, অনেক ভালো মানের কাঠের বা লোহার ফার্নিচার সেকেন্ড হ্যান্ডে খুব কম দামে পাওয়া যায়। অনেক সময় মানুষ বাসা পরিবর্তন করে, বা পুরনো ফার্নিচার বদলে নতুন কিছু কিনতে চায়, তখন তারা ভালো মানের জিনিসও কম দামে বিক্রি করে দেয়। আমি একবার একটা দারুণ কাঠের ডাইনিং টেবিল সেট কিনেছিলাম, যা নতুন কিনতে গেলে আমার বাজেটের বাইরে ছিল। সেকেন্ড হ্যান্ডে কিনে সেটাকে একটু পলিশ করিয়ে নিয়েছি, এখন মনে হয় যেন একদম নতুন। গৃহস্থালীর অন্যান্য জিনিস যেমন সাজসজ্জার উপকরণ, থালা-বাসন, ছোটখাটো ইলেক্ট্রনিক গ্যাজেট (যেগুলো সচরাচর নষ্ট হয় না)— এগুলোও সেকেন্ড হ্যান্ডে কেনা যায়। শুধু একটু দেখে নিতে হবে যে জিনিসগুলো ভাঙা বা ক্ষতিগ্রস্ত নয়।

বই ও বিনোদন উপকরণ

আমার বই পড়ার খুব শখ। নতুন বই কিনতে গেলে তো পকেট খালি হয়ে যায়! কিন্তু সেকেন্ড হ্যান্ড বইয়ের দোকানে বা অনলাইন গ্রুপগুলোতে কত কম দামে যে নতুন-পুরোনো সব ধরনের বই পাওয়া যায়, তার হিসাব নেই। আমি নিয়মিত সেকেন্ড হ্যান্ড বই কিনি। এতে একদিকে যেমন টাকার সাশ্রয় হয়, অন্যদিকে অনেক দুর্লভ বইও হাতে আসে। গেম কনসোল বা ভিডিও গেমও সেকেন্ড হ্যান্ডে কেনা বুদ্ধিমানের কাজ। গেমগুলো সাধারণত ভালো অবস্থায় থাকে, আর কনসোলের ক্ষেত্রেও একটু পরীক্ষা করে কিনলে কোনো সমস্যা থাকে না। আমি নিজেও অনেক পুরোনো গেম কম দামে কিনেছি, আর সেগুলো খেলে অনেক আনন্দ পেয়েছি। এগুলো নতুন কিনলে অনেক টাকা খরচ হয়ে যেত।

নিজের পুরোনো জিনিস বিক্রি করার স্মার্ট কৌশল

Advertisement

আমাদের সবার বাসাতেই এমন কিছু জিনিস থাকে যেগুলো হয়তো আমাদের আর প্রয়োজন নেই, কিন্তু অন্য কারো জন্য সেগুলো খুব দরকারি হতে পারে। এই অপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলো ফেলে না দিয়ে বিক্রি করে আপনি যেমন কিছু অতিরিক্ত টাকা উপার্জন করতে পারবেন, তেমনি অন্য একজন উপকৃত হবে। আমি নিজেও মাঝেমধ্যে আমার পুরোনো মোবাইল, গ্যাজেট, বা বই বিক্রি করি। এতে আমার কিছু টাকা আসে, আর জিনিসগুলোও নতুন জীবন পায়। তবে ভালো দাম পেতে হলে এবং দ্রুত বিক্রি করতে হলে কিছু কৌশল অবলম্বন করা জরুরি। শুধু একটা বিজ্ঞাপন দিলেই হবে না, সেটার পেছনেও একটু বুদ্ধি খাটাতে হবে। ঠিকঠাক পরিকল্পনা করে যদি আপনার জিনিস বিক্রি করতে নামেন, তাহলে দেখবেন ক্রেতা পেতে মোটেও বেগ পেতে হচ্ছে না।

পণ্যের সঠিক মূল্য নির্ধারণ

중고 거래 활용법 - **Prompt 2: Sustainable Living with Pre-Loved Treasures**
    "A cozy, sunlit living room bathed in ...
আপনি যে জিনিসটা বিক্রি করতে চান, সেটার সঠিক মূল্য নির্ধারণ করাটা খুব জরুরি। অতিরিক্ত দাম চাইলে ক্রেতা আপনার পণ্যের দিকে ফিরেও তাকাবে না, আবার খুব কম দামে বিক্রি করলে আপনার ক্ষতি। তাই বাজার মূল্য সম্পর্কে একটা ধারণা নিন। আপনার পণ্যের নতুন দাম কত, সেটা কতদিন ব্যবহার করা হয়েছে, কেমন অবস্থায় আছে, আর সেকেন্ড হ্যান্ড মার্কেটে একই ধরনের জিনিসের দাম কেমন— এসব গবেষণা করে একটা ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করুন। প্রয়োজনে অন্য বিক্রেতাদের সাথে তুলনা করুন। আমি যখন আমার পুরোনো ল্যাপটপ বিক্রি করেছিলাম, তখন Bikroy.com-এ একই মডেলের অন্যান্য ল্যাপটপের দাম দেখে একটা রেঞ্জ ঠিক করেছিলাম। তারপর আমার ল্যাপটপের বর্তমান অবস্থা (ব্যাটারি, স্ক্রিন, র‍্যাম) বিবেচনা করে একটা দাম দিয়েছিলাম। এতে ক্রেতারাও দ্রুত আগ্রহ দেখিয়েছে।

আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন তৈরি

আপনার পণ্যের বিজ্ঞাপন যত আকর্ষণীয় হবে, তত বেশি ক্রেতা আকৃষ্ট হবে। পরিষ্কার ও ভালো মানের ছবি তুলুন। বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে ছবি দিন, যাতে পণ্যের সব দিক দেখা যায়। যদি কোনো ত্রুটি থাকে, সেটা স্পষ্টভাবে ছবিতে তুলে ধরুন এবং বিবরণে উল্লেখ করুন। এতে ক্রেতার বিশ্বাস অর্জন করা যায়। পণ্যের বিস্তারিত বিবরণ দিন— কী মডেল, কখন কেনা, কতদিন ব্যবহার করা হয়েছে, ওয়ারেন্টি আছে কিনা, বর্তমান অবস্থা কেমন। যত বেশি তথ্য দেবেন, ক্রেতার জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া তত সহজ হবে। আর সবচেয়ে বড় কথা, আপনার লেখার স্টাইলটা যেন বন্ধুত্বপূর্ণ হয়। আমি আমার বিজ্ঞাপনে প্রায়শই লিখি, “খুব যত্ন করে ব্যবহার করেছি, তাই নতুনের মতোই আছে!” বা “আমার এখন প্রয়োজন নেই, তাই বিক্রি করছি।” এতে ক্রেতারাও বিশ্বাস করে যে আপনি মিথ্যা বলছেন না।

প্রতারণা থেকে নিজেকে বাঁচানোর উপায়

ডিজিটাল দুনিয়ায় সেকেন্ড হ্যান্ড জিনিস কেনাবেচা যেমন সহজ হয়েছে, তেমনি কিছু অসাধু ব্যক্তি এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রতারণা করার চেষ্টা করে। এই ধরনের প্রতারণা থেকে নিজেকে বাঁচানোটা খুবই জরুরি। আমার অনেক বন্ধু আছে যারা সেকেন্ড হ্যান্ড জিনিস কিনতে গিয়ে টাকা খুইয়ে বসেছে। আবার অনেকে জিনিস বিক্রি করতে গিয়েও বিপদে পড়েছে। তাই সব সময় চোখ-কান খোলা রেখে সতর্ক থাকা উচিত। অপরিচিত কারো সাথে লেনদেন করার সময় অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। কোনো লোভনীয় অফার দেখেই ঝাঁপিয়ে পড়া চলবে না। একটু থেমে, ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মনে রাখবেন, নিরাপত্তা সবার আগে, টাকা হারানোর চেয়ে নিরাপদ থাকাটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

লেনদেনের ক্ষেত্রে সতর্কতা

টাকা লেনদেন করার সময় সব সময় সতর্ক থাকুন। অপরিচিত বিক্রেতার ক্ষেত্রে কখনোই অগ্রিম টাকা দেবেন না। আগে জিনিসটা হাতে নিন, ভালো করে পরীক্ষা করে দেখুন, তারপর টাকা দিন। অনলাইন পেমেন্টের ক্ষেত্রেও একই কথা। যদি বিক্রেতা আপনাকে কোনো অপরিচিত লিংকে ক্লিক করে পেমেন্ট করতে বলে, বা আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্য চায়, তাহলে ভুলেও দেবেন না। এসব ফিশিংয়ের ফাঁদ হতে পারে। নগদ লেনদেনের ক্ষেত্রেও জনসমাগমপূর্ণ জায়গায় দেখা করুন। আমি একবার একটা দামী স্মার্টফোন বিক্রি করেছিলাম। ক্রেতা আমার বাড়িতে এসে জিনিসটা নিতে চেয়েছিল। কিন্তু আমি তাকে শহরের একটি জনবহুল মার্কেটে ডেকেছিলাম, যেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা আছে। এতে আমি নিরাপদ ছিলাম।

অপরিচিত ব্যক্তির সাথে মিটিং এর নিরাপত্তা

যখন আপনি একজন অপরিচিত বিক্রেতা বা ক্রেতার সাথে দেখা করতে যাবেন, তখন আপনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়টি সবার আগে নিশ্চিত করুন। জনসমাগমপূর্ণ ও নিরাপদ স্থানে দেখা করুন, যেমন কোনো শপিং মল, জনপ্রিয় ক্যাফে, অথবা কোনো পাবলিক স্কয়ার। কোনো নির্জন জায়গায় বা সন্ধ্যার পর একা দেখা করা থেকে বিরত থাকুন। সম্ভব হলে আপনার কোনো বন্ধু বা পরিবারের সদস্যকে সাথে নিয়ে যান। আপনার পরিচিত কাউকে জানিয়ে রাখুন আপনি কোথায়, কার সাথে দেখা করতে যাচ্ছেন। মোবাইলে লোকেশন শেয়ার করে রাখলে আরও ভালো হয়। এসব ছোট ছোট সতর্কতা আপনাকে বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে। নিজের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো আপোষ করবেন না।

সেকেন্ড হ্যান্ড মার্কেটের ভবিষ্যত: এক নতুন দিগন্ত

Advertisement

আমরা এখন এমন একটা সময়ে বাস করছি যেখানে সবকিছুই দ্রুত বদলাচ্ছে। সেকেন্ড হ্যান্ড মার্কেটও তার ব্যতিক্রম নয়। আমার মনে হয়, আগামীতে এই বাজারটা আরও অনেক বড় হবে, আরও বেশি মানুষ এর সাথে যুক্ত হবে। প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে পুরোনো জিনিস কেনাবেচা আরও সহজ ও নিরাপদ হয়ে উঠবে। আমরা এখনকার Bikroy.com বা Facebook Marketplace-এর বাইরেও হয়তো আরও অনেক নতুন নতুন প্ল্যাটফর্ম দেখব, যেগুলো নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের উপর ফোকাস করবে। মানুষ এখন অনেক বেশি সচেতন হচ্ছে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম টেকসই জীবনযাত্রার দিকে ঝুঁকছে। তারা পরিবেশ দূষণ কমাতে চায়, অপ্রয়োজনীয় খরচ কমাতে চায়। এই মানসিকতাই সেকেন্ড হ্যান্ড মার্কেটের ভবিষ্যতকে উজ্জ্বল করে তুলবে। আমি মনে করি, এটা শুধু একটা অর্থনৈতিক পরিবর্তন নয়, বরং একটা সামাজিক ও পরিবেশগত পরিবর্তনও।

প্রযুক্তির ভূমিকা ও ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা

প্রযুক্তির অগ্রগতির কারণে সেকেন্ড হ্যান্ড মার্কেটের জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলেছে। মোবাইল অ্যাপ, উন্নত সার্চ ফিল্টার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নির্ভর পণ্য সুপারিশ ব্যবস্থা— এসবই ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য জিনিস খুঁজে পাওয়া এবং লেনদেন করা আরও সহজ করে তুলছে। ভবিষ্যতে আমরা হয়তো আরও উন্নত ভার্চুয়াল ট্রাই-অন (Virtual Try-on) প্রযুক্তি দেখতে পাব, যেখানে পোশাক বা জুতা কেনার আগে ভার্চুয়ালি ট্রাই করে দেখা যাবে। ব্লকচেইন প্রযুক্তির ব্যবহার পণ্যের আসলতা এবং ইতিহাস যাচাইয়ে সাহায্য করবে, যা প্রতারণা কমাতে সহায়ক হবে। আমার মনে হয়, এই ধরনের প্রযুক্তিগত উন্নতি সেকেন্ড হ্যান্ড মার্কেটের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়িয়ে দেবে এবং একে মূলধারার বাজারের সাথে পাল্লা দিতে সক্ষম করে তুলবে।

টেকসই জীবনযাত্রার দিকে পদক্ষেপ

সেকেন্ড হ্যান্ড মার্কেট শুধু টাকা বাঁচানোর একটা উপায় নয়, এটা একটা টেকসই জীবনযাত্রার দিকেও বড় একটা পদক্ষেপ। আমরা যখন পুরোনো জিনিস ব্যবহার করি, তখন নতুন করে উৎপাদন করার প্রয়োজন কমে যায়, যার ফলে পরিবেশের ওপর চাপ কমে। এটা এক ধরনের বৃত্তাকার অর্থনীতি (Circular Economy) যেখানে জিনিসপত্র বারবার ব্যবহার করা হয়, ফেলে দেওয়া হয় না। তরুণ প্রজন্ম এখন পরিবেশ নিয়ে অনেক বেশি চিন্তিত। তারা এমন পণ্য ব্যবহার করতে চায় যা পরিবেশবান্ধব। সেকেন্ড হ্যান্ড জিনিস কেনাবেচা এই ধারণাকেই সমর্থন করে। আমি বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতে আরও বেশি মানুষ এই টেকসই জীবনযাত্রার অংশ হিসেবে সেকেন্ড হ্যান্ড মার্কেটের দিকে ঝুঁকবে, এবং এটা আমাদের সমাজের একটা ইতিবাচক পরিবর্তনে বড় ভূমিকা রাখবে।

글을মাচি며

বন্ধুরা, এই যে এতক্ষণ ধরে পুরোনো জিনিসের কেনাবেচা নিয়ে কথা বললাম, আশা করি আপনাদের ভালো লেগেছে আর অনেক নতুন কিছু জানতে পেরেছেন। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, একটু বুদ্ধি খাটিয়ে আর সতর্ক হয়ে চললে এই বাজার থেকে দারুণ সব সুযোগ লুফে নেওয়া যায়। এটা শুধু আপনার পকেটই বাঁচায় না, বরং আমাদের এই সুন্দর পৃথিবীটাকেও আরও একটু ভালো রাখার সুযোগ করে দেয়। ভাবুন তো, একটা জিনিস আপনার কাছে অপ্রয়োজনীয়, অথচ সেটা অন্য কারো জীবনে কতটা আনন্দ নিয়ে আসতে পারে!

এই ধরনের লেনদেন শুধু পণ্যের আদান-প্রদান নয়, বরং এটি মানুষের মধ্যে এক ধরনের বিশ্বাস আর সংযোগও তৈরি করে। তাই আর দেরি না করে আপনার ঘরে পড়ে থাকা জিনিসগুলোকেও একটা নতুন জীবন দিন, আর আপনার প্রয়োজনীয় জিনিসটা খুঁজে নিন। দেখবেন, আপনার কেনাকাটার অভিজ্ঞতা আরও অনেক বেশি মজাদার আর অর্থবহ হয়ে উঠেছে।

알ােোখলোান

১. বাজার গবেষণা এবং সঠিক মূল্য নির্ধারণ: যেকোনো সেকেন্ড হ্যান্ড পণ্য কেনা বা বিক্রি করার আগে তার বাজার মূল্য সম্পর্কে ভালোভাবে গবেষণা করুন। নতুন পণ্যের দাম, একই মডেলের পুরোনো পণ্যের বর্তমান অবস্থা এবং অন্যান্য বিক্রেতারা কত দামে বিক্রি করছে, সে সম্পর্কে ধারণা নিন। এতে আপনি একটি ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করতে পারবেন এবং ঠকে যাওয়ার সম্ভাবনা কমবে।

২. পণ্যের অবস্থা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই: দামি ইলেকট্রনিক্স (যেমন- মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ), ফার্নিচার বা যানবাহনের মতো জিনিসপত্র কেনার আগে অবশ্যই বিক্রেতার সাথে দেখা করে পণ্যটি হাতে নিয়ে ভালোভাবে পরীক্ষা করে নিন। শুধু ছবি দেখে বা বিবরণের উপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেবেন না। এর কার্যকারিতা, কোনো ত্রুটি আছে কিনা, সবকিছু খুঁটিয়ে দেখুন।

৩. বিক্রেতা/ক্রেতার প্রোফাইল ও রিভিউ পর্যালোচনা: অনলাইন প্ল্যাটফর্মে লেনদেন করার সময় বিক্রেতা বা ক্রেতার প্রোফাইল এবং পূর্ববর্তী রিভিউগুলো গুরুত্ব সহকারে দেখুন। যদি প্রোফাইল নতুন হয়, কোনো রিভিউ না থাকে অথবা নেতিবাচক রিভিউ থাকে, তবে অতিরিক্ত সতর্ক থাকুন। এটি আপনাকে সম্ভাব্য প্রতারণা থেকে রক্ষা করতে পারে।

৪. নিরাপদ লেনদেন পদ্ধতি অবলম্বন: কখনোই অপরিচিত কারো ক্ষেত্রে অগ্রিম টাকা দেবেন না। পণ্য হাতে পাওয়ার পর এবং ভালোভাবে যাচাই করার পরই পেমেন্ট করুন। অনলাইন পেমেন্টের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকুন এবং কোনো সন্দেহজনক লিংক বা পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করবেন না। ক্যাশ লেনদেনের ক্ষেত্রে জনাকীর্ণ ও নিরাপদ স্থান বেছে নিন।

৫. ব্যক্তিগত নিরাপত্তার প্রতি গুরুত্ব: যদি আপনাকে সরাসরি কারো সাথে দেখা করতে হয়, তবে সবসময় জনবহুল এবং নিরাপদ স্থান (যেমন- শপিং মল, জনপ্রিয় ক্যাফে বা উন্মুক্ত পাবলিক স্থান) বেছে নিন। সন্ধ্যার পর নির্জন জায়গায় একা দেখা করা থেকে বিরত থাকুন। সম্ভব হলে আপনার কোনো বিশ্বস্ত বন্ধু বা পরিবারের সদস্যকে সাথে নিয়ে যান অথবা তাদের জানিয়ে রাখুন আপনি কোথায় যাচ্ছেন।

Advertisement

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো একনজরে

এই যে দেখেন, সেকেন্ড হ্যান্ড জিনিসের বাজারটা আমাদের জন্য কতটা সুবিধা এনে দিয়েছে, তাই না? তবে সবকিছুর মতো এখানেও কিছু বিষয় মাথায় রাখলে আপনার অভিজ্ঞতাটা আরও ভালো হবে। সবচেয়ে জরুরি হলো, যেকোনো লেনদেনের সময় চোখ-কান খোলা রাখা। বিক্রেতা বা ক্রেতা যেই হোক না কেন, তার সম্পর্কে একটু খোঁজ খবর নেওয়া, তার প্রোফাইলটা দেখা— এগুলোতে কোনো আলসেমি করবেন না। আর একটা কথা, দামি কিছু কেনার আগে অবশ্যই জিনিসটা নিজের চোখে দেখে, হাতে নিয়ে ভালোভাবে পরীক্ষা করে নেবেন। আমি নিজেই তো কতবার এমন কিছু কিনতে গিয়েছি যা ছবিতে একরকম, আর বাস্তবে অন্যরকম!

বিশেষ করে যখন টাকা লেনদেনের ব্যাপার আসে, তখন কখনোই তাড়াহুড়ো করবেন না আর অগ্রিম টাকা দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। মনে রাখবেন, আপনার নিরাপত্তা সবার আগে। এই ছোট ছোট বিষয়গুলো যদি মনে রাখেন, তাহলে এই সেকেন্ড হ্যান্ড বাজার থেকে আপনিও দারুণ সব ডিল খুঁজে নিতে পারবেন আর একই সাথে পরিবেশ রক্ষায়ও ছোট একটা অবদান রাখতে পারবেন। স্মার্টলি কেনাবেচা করুন আর থাকুন নিশ্চিন্ত!

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) 📖

প্র: সেকেন্ড হ্যান্ড জিনিস কেনাবেচা করতে গিয়ে প্রতারণা থেকে বাঁচার জন্য কী কী সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত?

উ: আরে ভাই, এই প্রশ্নটা আজকাল সবার মনেই ঘুরপাক খাচ্ছে। আমিও যখন প্রথম এই পুরোনো জিনিসের বাজারে নেমেছিলাম, তখন খুব চিন্তায় থাকতাম কিভাবে ঠকবো না। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলি, সবার আগে যেটা করবেন, সরাসরি দেখা করে জিনিসটা ভালোভাবে দেখে নেবেন। মানে ধরুন, আপনি একটা ফোন কিনতে যাচ্ছেন, ছবিতে যতই ভালো দেখাক না কেন, হাতে নিয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখুন স্ক্রিনে কোনো দাগ আছে কিনা, ক্যামেরা ঠিকমতো কাজ করছে কিনা, ব্যাটারি কেমন সার্ভিস দিচ্ছে। আমার এক বন্ধু একবার অনলাইনে একটা ল্যাপটপ কিনেছিল, ছবিতে দারুণ দেখতে লাগলেও, ডেলিভারি পাওয়ার পর দেখলো ল্যাপটপের ব্যাটারি একেবারেই মৃত!
তাই ভাই, সামনাসামনি দেখা করাটা খুব জরুরি। চেষ্টা করবেন জনবহুল কোনো জায়গায় দেখা করতে। আর সবচেয়ে বড় কথা, অগ্রিম টাকা দেবেন না। আমি নিজেও কখনো অগ্রিম টাকা দিই না। জিনিস হাতে পাওয়ার পর এবং সব কিছু ঠিকঠাক আছে নিশ্চিত হওয়ার পরই টাকা দেওয়া উচিত। অনেক সময় দেখবেন, বিক্রেতারা তাড়াহুড়ো করে টাকা পাঠানোর জন্য চাপ দেবে – এমন ক্ষেত্রে সতর্ক হবেন। তাদের প্রোফাইল যদি ফেসবুকে হয়, তাহলে একটু ঘাটাঘাটি করে দেখবেন প্রোফাইলটা আসল কিনা, পুরোনো কিনা। এসব ছোট ছোট বিষয়গুলো খেয়াল রাখলে প্রতারণার হাত থেকে অনেকটাই বাঁচা যায়। বিশ্বাস করুন, আমার বহুবার এমন পরিস্থিতিতে পড়েছি, আর এই সাবধানতাগুলোই আমাকে বাঁচিয়েছে।

প্র: সেকেন্ড হ্যান্ড জিনিস কেনার সময় সেরা ডিলটি কিভাবে খুঁজে পাবো?

উ: সেরা ডিল খোঁজাটা একটা আর্ট, ভাই! আমার মনে হয়, এটা অনেকটা গুপ্তধন খোঁজার মতো। আমিও অনেক সময় এমন দারুণ ডিল খুঁজে পেয়েছি যা ভাবতেই পারিনি। প্রথমত, কোনো কিছু কেনার আগে বাজারে সেই নতুন জিনিসটার দাম কত, সে সম্পর্কে একটা ধারণা রাখুন। যেমন ধরুন, আপনি একটা ফ্রিজ কিনতে চাচ্ছেন, আগে জেনে নিন নতুন ফ্রিজের মডেলগুলোর দাম কত। তারপর পুরোনো ফ্রিজ খুঁজতে নেমে পড়ুন Bikroy.com, ফেসবুক মার্কেটপ্লেসের বিভিন্ন গ্রুপে। শুধু একটা প্ল্যাটফর্মে আটকে থাকবেন না, বিভিন্ন জায়গায় খুঁজুন। আমার তো মনে হয়, ফেসবুকের বিভিন্ন বাই-সেল গ্রুপগুলো এক একটা গুপ্তধনের খনি!
সেখানে অনেক সময় খুব ভালো জিনিস অবিশ্বাস্য দামে পাওয়া যায়। দ্বিতীয়ত, দর কষাকষি করতে শিখুন। বাঙালি হিসেবে এটা তো আমাদের রক্তে মিশে আছে, তাই না? কিন্তু স্মার্টলি দর কষাকষি করবেন, আক্রমণাত্মকভাবে নয়। বিক্রেতার সাথে একটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করে তারপর দাম কমানোর চেষ্টা করুন। আর জিনিসপত্রের অবস্থা অনুযায়ী দাম নিয়ে আলোচনা করুন। যদি একটু দাগ বা ছোটখাটো সমস্যা থাকে, সেটার জন্য অবশ্যই দাম কমাবেন। আর সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ টিপস হলো, ধৈর্য ধরুন। ভালো ডিল এক দিনে বা এক ঘণ্টায় পাওয়া যায় না। নিয়মিত খোঁজ খবর রাখলে দেখবেন, আপনার পছন্দের জিনিসটা ঠিক একদিন আপনার নজরে আসবে, আর তখন সেরা দামে সেটা কিনে নিতে পারবেন। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, তাড়াহুড়ো করলে ঠকে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

প্র: পুরোনো জিনিস বিক্রি করার সময় দাম কিভাবে ঠিক করবো, যাতে তাড়াতাড়ি বিক্রি হয় এবং ভালো দামও পাই?

উ: পুরোনো জিনিস বিক্রি করার সময় দাম নির্ধারণ করাটা আসলে একটা ব্যালেন্সের ব্যাপার। আমরা সবাই চাই জিনিসটা তাড়াতাড়ি বিক্রি হোক, আবার ভালো দামও পাই। আমি যখন কিছু বিক্রি করি, তখন প্রথমে দেখি আমার জিনিসটার মতো একই ধরনের নতুন জিনিস বাজারে কত দামে বিক্রি হচ্ছে। ধরুন, আমার একটা পুরোনো মোবাইল আছে, আমি দেখব বাজারে এখন ওই মডেলের নতুন ফোনের দাম কেমন, বা ওই মডেলের সেকেন্ড হ্যান্ড ফোন অন্য বিক্রেতারা কত দামে বিক্রি করছে। এটা আপনাকে একটা বেসলাইন দেবে। দ্বিতীয়ত, আপনার জিনিসের অবস্থাটা খুব জরুরি। যদি জিনিসটা একদম নতুনের মতো থাকে, কোনো দাগ বা সমস্যা না থাকে, তাহলে ভালো দাম চাইতে পারবেন। কিন্তু যদি কিছুটা পুরোনো হয় বা ছোটখাটো ত্রুটি থাকে, তাহলে সেটার জন্য কিছুটা দাম কমাতেই হবে। সততার সাথে পণ্যের ত্রুটি উল্লেখ করলে ক্রেতার বিশ্বাস অর্জন করা যায়, আর এতে দ্রুত বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। আমার মনে হয়, একটা সহনীয় রেঞ্জে দর কষাকষির জন্য একটু জায়গা রেখে দামটা ঠিক করা উচিত। যেমন, যদি আপনি মনে করেন আপনার জিনিসের ন্যায্য মূল্য ৫০০০ টাকা, তাহলে বিজ্ঞাপনে হয়তো ৫২০০-৫৫০০ টাকা লিখতে পারেন, যাতে ক্রেতা যখন দর কষাকষি করবে, তখনও আপনার প্রত্যাশিত দামের কাছাকাছি থাকতে পারেন। ভালো ছবি তুলুন, জিনিসটার সব দিক থেকে পরিষ্কার ছবি দিন। আর বর্ণনাটা এমনভাবে লিখুন যাতে ক্রেতা আকর্ষণীয় মনে করে। আমার তো মনে হয়, সুন্দর বর্ণনা আর পরিষ্কার ছবিই একটা জিনিস দ্রুত বিক্রি করতে সাহায্য করে।

📚 তথ্যসূত্র